ভোটের রাজনীতি ও শরিয়া বাস্তবায়ন: বাস্তবতা, বিভ্রান্তি ও করণীয়
ভোটের রাজনীতি আর শরিয়া বাস্তবায়ন—একই কথা নয়
বর্তমানে যে ইসলামী রাজনীতির কথা বলা হয়, সেটাকে গভীরভাবে দেখলে বোঝা যায়—এটা মূলত কুফরী রাষ্ট্রব্যবস্থার ভেতরে মুসলমানদের প্রতিনিধিত্ব করা, ইসলামী রাষ্ট্র কায়েম করা নয়।
যারা বলেন, “ভোটের মাধ্যমে ধীরে ধীরে শরিয়া আইন চালু করবো”—এই কথাটা বাস্তবে খুব দুর্বল। কারণ রাষ্ট্রব্যবস্থার মূল ভিত্তিই যখন মানুষের বানানো আইন ও সংখ্যাগরিষ্ঠতার উপর দাঁড়ানো, সেখানে আল্লাহর আইন পূর্ণভাবে চালু হওয়ার সুযোগই থাকে না।
ভোটের রাজনীতিতে নামলে আপস করতেই হয়। জনপ্রিয়তার জন্য অনেক সময় ইসলামের স্পষ্ট বিধান আড়াল করা হয়। “এখন সময় না”—এই কথা বলতে বলতে বছর চলে যায়, কিন্তু শরিয়া আসে না।
ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়—সংসদে যাওয়া, মন্ত্রী হওয়া বা ক্ষমতার অংশীদার হওয়া সত্ত্বেও কোথাও শরিয়া পূর্ণভাবে কায়েম হয়নি।
তাই যারা এ পথে শরিয়া প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখান—
হয় তারা বাস্তবতা বোঝেন না,
নয়তো সাধারণ মুসলমানদের আবেগকে ভুল পথে ব্যবহার করছেন।
শরিয়া আসে ভোটের স্লোগান দিয়ে নয়,
আসে ঈমান, আকীদা, চরিত্র ও সমাজ বদলের দীর্ঘ প্রস্তুতির মাধ্যমে।
সত্যিকারের ইসলামী পথ আর ইসলামের নামে রাজনীতি—এই দুটাকে আলাদা করে চেনাই আজ সবচেয়ে জরুরি।
মোট কথা,
প্রচলিত ইসলামী রাজনীতি মনে হলো , কুফরী রাষ্ট্রব্যবস্থায় মুসলমানদের প্রতিনিধিত্ব করা । সুতরাং যারা বলে শরিয়া আইন বাস্তবায়ন এর জন্য ভোটের রাজনীতি করছি,তারা হয় বোকার স্বর্গে বাস করছেন,বা জনগণকে বিভ্রান্ত করছে।শরিয়া আইনের বাস্তবায়ন শুধুমাত্র দাওয়াত ও জি*হাদের মাধ্যমে সম্ভব। অন্য কোনভাবে পসিবল নয়।
ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, দাওয়াত মানুষের চিন্তা ও ঈমান গড়ে তোলে, আর জি*হাদ সেই ঈমানকে রক্ষা ও প্রতিষ্ঠার পথে প্রতিবন্ধকতা দূর করে। অপশক্তির শাসন সর্বব্যাপী হলেও আল্লাহর সুন্নাহ কখনো বদলায় না। সঠিক আকীদা, সুসংগঠিত দাওয়াত, ধৈর্য ও শরয়ি সীমার ভেতরে পরিচালিত জি*হাদ—এই পথেই পরিবর্তন এসেছে, ভবিষ্যতেও আসবে ইনশাআল্লাহ।
প্রশ্নোত্তর (FAQ)
প্রশ্ন ১: ইসলামে কি ভোট দেওয়া সম্পূর্ণ হারাম?
উত্তর: এখানে আলোচ্য বিষয় ভোটের ফিকহি হুকুম নয়; বরং ভোটের মাধ্যমেই শরিয়া পূর্ণ বাস্তবায়নের দাবি কতটা বাস্তবসম্মত—সেই প্রশ্ন।
বর্তমান বাস্তবতায় গণতন্ত্রকে অনেক আলেম আকীদা হিসেবে নয়, বরং একটি সাময়িক মাধ্যম (وسيلة) হিসেবে দেখেন। তাদের মতে, এটি কোনো ইসলামী আদর্শ বা চূড়ান্ত লক্ষ্য নয়; বরং বিদ্যমান রাষ্ট্রব্যবস্থার ভেতরে থেকে কিছু দ্বীনি স্বার্থ রক্ষা করা, দাওয়াতের সুযোগ তৈরি করা এবং মুসলমানদের উপর আসা ক্ষতি কিছুটা হলেও প্রতিহত করার একটি কৌশলমাত্র।
অর্থাৎ, গণতন্ত্রকে গ্রহণ করা মানে শরিয়ার বিকল্প মানা নয়; বরং বাস্তব পরিস্থিতিতে সীমিত পরিসরে ইসলামের কিছু কল্যাণ নিশ্চিত করার চেষ্টা করা—যতক্ষণ না আল্লাহ তাআলা উত্তম ও পূর্ণাঙ্গ পথের ব্যবস্থা করেন।
ইনশাআল্লাহ আপনার করা প্রশ্নগুলো নিয়ে সময় নিয়ে একসময় আলোচনা করবো।
প্রশ্ন ২: তাহলে মুসলমানদের করণীয় কী?
উত্তর: ঈমান, আকীদা, দাওয়াহ, শিক্ষা ও সমাজ সংস্কারের মাধ্যমে ইসলামী ভিত্তি মজবুত করা।
প্রশ্ন ৩: ইসলামী রাজনীতি কি পুরোপুরি পরিত্যাজ্য?
উত্তর: রাজনীতির নামে বিভ্রান্তিকর দাবি পরিত্যাজ্য; তবে ইসলামী দৃষ্টিভঙ্গি ও নীতির আলোকে উম্মাহর কল্যাণমূলক কাজ সব সময় প্রয়োজন।


0 মন্তব্যসমূহ